Posts

মন ও চরিত্রের পবিত্রতা রক্ষা করার উপায়।

Image
চরিত্রহনন–দমনম্ কামনা-বাসনা  শক্নুবন্তি চরিত্র-হনম্॥ পতি-পত্নী  শক্নুতঃ তস্য সর্বোত্তমং দমনম্॥ মানুষ যখন এই পৃথিবীতে জন্মায়, তখন তাদের মন গঙ্গা জলের মতো পবিত্র থাকে। নবজাতকের মন দেবশিশুর মতো নিষ্পাপ ও নির্মল হয়। এই নির্মল মনের সঙ্গে দেবশিশুর মনের মধ্যে কোনো পার্থক্য থাকে না। যখন এই মানব শিশু ধীরে ধীরে বড় হতে শুরু করে, তখন পরিবার, আত্মীয়স্বজন, পাড়া-প্রতিবেশী ও সমাজের প্রভাব তার পবিত্র মনে কাম, ক্রোধ, লোভ, মোহ, অহংকার, ঈর্ষা, হিংসা এবং ঘৃণার মতো আবর্জনা ঢুকিয়ে দিতে পারে। এর ফলে শিশুর পবিত্র মন নর্দমার মতো মলিন হয়ে যায় এবং তার স্বভাব খারাপ হয়ে যায়। ।  এভাবে দেবশিশু দৈত্য বা দানবে পরিণত হয়, আর মানুষ হয়ে যায় অমানুষ। মনে করি হেন কর্ম না করিব আর, স্বভাবে করায় কর্ম — কি দোষ আমার? মনকে অশুভ প্রভাব থেকে বাঁচানোর উপায়: নিজের ও সন্তানদের পবিত্র মনে অন্যদের দ্বারা কোনো নোংরা বা আবর্জনা প্রবেশ করতে দেবেন না। তাদের খারাপ সঙ্গ ও খারাপ মানুষের প্রভাব থেকে দূরে রাখুন। নিজেকে ও সন্তানদের মন পরিষ্কার রাখার চেষ্টা করুন। কারণ মন অপরিষ্কার হলেই মাথায় উল্টোপাল্টা চিন্তা বাসা বা...

স্বভাব দোষ: শিক্ষামূলক নীতি বাক্য - উপদেশ।

Image
মনে করি হেন কর্ম না করিব আর, স্বভাবে করায় কর্ম - কি দোষ আমার? স্বভাব দোষ:- মানুষের স্বভাব যখন  খারাপ হয়ে যায় ,তখন সে তার স্বভাবের কারনে খারাপ কাজ করে একে স্বভাবজনিত কর্ম দোষ বলা হয়, এর থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য  সাধুসঙ্গ অপরিহার্য। তাই মানুষের  উচিত সত্য হৃদয়ে সাধু-সন্তের সঙ্গ (সৎসঙ্গ) অন্বেষণ করা। এখন প্রশ্ন হল সাধু সন্ত কারা ,তার সহজ উত্তর হল যাঁরা সর্বদা ঈশ্বরচিন্তায় নিমগ্ন,অভিজ্ঞতার দ্বারা ঈশ্বরকে জানেন,স্বার্থহীনভাবে জীবনযাপন করেন,সত্য কথা বলেন  ও সত্যকর্ম করেন,পরার্থে নিষ্কাম কর্ম করেন,এবং জগতের ভোগবিলাসে অনাসক্ত থাকেন, তাঁরাই সাধু । সাধু-সন্তের সঙ্গ মানুষের অন্তর থেকে সমস্ত কামনা, অশুদ্ধতা ও অজ্ঞানতাকে মুছে ফেলতে সক্ষম। এই সৎসঙ্গই মনুষ্যকে তার স্বভাবের বন্ধন থেকে মুক্ত করে, এবং ঈশ্বরপ্রেমে স্থিত করে। সনাতন ধর্ম সনাতন আদিধর্ম সংস্থাপকঃ যঃ পরব্রহ্ম। যাবন্তো দৃশ্যন্তে ধর্মাঃ সর্বে তে সনাতনানুধর্মাঃ॥ সনাতন ধর্ম । সনাতন ধর্ম সংক্ষেপে বলতে গেলে, এটি হিন্দুধর্মের অপর নাম—এর অর্থ "চিরন্তন" বা "শাশ্বত ধর্ম"। এই ধর্মের উৎপত্তি অনাদি কাল থেকে; অর্থাৎ এর কোনো শুরু ...

শিক্ষা, বিদ্যা ও বুদ্ধি: শিক্ষিত মানুষ চেনার সহজ উপায়।

Image
  বিদ্যা ও  শিক্ষা ज्ञानं मातृवत् पालयेत् पितृवच्चोपकारिणम् भार्येव तनुश्रमं हन्यात् बान्धववच्च हर्षयेत् यशः प्रसारयेद् लोकेऽसाध्यमपि साधयेत्॥ বিদ্যা মায়ের মতো রক্ষা করে, পিতার মতো উপকার করে, স্ত্রীর মতো ক্লান্তি দূর করে মনকে প্রফুল্ল করে। এটি  চারিদিকে খ্যাতি ছড়িয়ে দেয় এবং কল্পলতার মতো অসম্ভবকে সম্ভব করে। তাই বলা হয়, "জ্ঞানং পরমং বলম"—জ্ঞানই পরম শক্তি। শিক্ষা, বিদ্যা ও বুদ্ধি শিক্ষা: সহজ ভাষায়, শেখা বা জ্ঞান ও দক্ষতা অর্জনকেই শিক্ষা বলা হয়। বুদ্ধি: জ্ঞান অর্জন এবং সেই জ্ঞানকে সঠিকভাবে প্রয়োগের ক্ষমতাকেই বুদ্ধি বলা হয়। বিদ্যা: অধ্যয়ন বা শিক্ষার মাধ্যমে অর্জিত জ্ঞানকেই বিদ্যা বলা হয়। মানুষ কিভাবে শিক্ষা গ্রহণ করে? মানুষ সাধারণত অধ্যয়ন ও অভ্যাসের মাধ্যমে শেখে। তবে ভুলের মাধ্যমে মানুষ সবচেয়ে বেশি শেখে, যদিও সেই ভুলটি যেন জীবনের শেষ ভুল না হয়। ভুল থেকে শিক্ষা নিতে হলে তার কারণ খুঁজে বের করা জরুরি। অন্যথায় ভুল থেকে শেখার সুযোগ বন্ধ হয়ে যায়। শিক্ষা ও বুদ্ধির সম্পর্ক শিক্ষা মানুষকে নতুন অভিজ্ঞতা অর্জন এবং পরিবর্তনশীল পরিবেশের সঙ্গে মানিয়ে নিতে সহায়তা করে। অন্য...

নিন্দা:নিন্দার প্রকার : মানুষ নিন্দা কেন করে ?

Image
  অস্ত্র শরীরের বাহিরে আঘাত করে, কিন্তু কটূক্তি ও কুৎসা মানুষের হৃদয়ে আঘাত করে। তাই কটূক্তি ও কুৎসা করার আগে এর দূরগামী পরিণাম নিয়ে গভীরভাবে ভাবা উচিত। কুৎসার আরেকটি সমার্থক শব্দ হলো "নিন্দা।" নিন্দা: নিন্দা শব্দের সাধারণ অর্থ— মিথ্যা-কুৎসা, কলঙ্ক, দোষারোপ, কটূক্তি ইত্যাদি। এটি হিংসুক মানুষদের দ্বারা পরিচালিত একটি ধ্বংসাত্মক দুষ্প্রচার (প্রপাগান্ডা) যুদ্ধ। যে ব্যক্তি মিথ্যাভাবে অন্যের নিন্দা করে, তাকে "নিন্দুক" বলা হয়। নিন্দার প্রকারভেদ: নিন্দা সাধারণত দুই প্রকার হয়— ১. ন্যায়/নীতি-বাচক নিন্দা: যখন কেউ অন্যায়, অপরাধ বা দোষ করে, তখন তার সমালোচনা করা হয় ন্যায়বিচারের স্বার্থে। এটিকে নীতি বাচক নিন্দা বলা হয়। ন্যায়সঙ্গত / নৈতিক সমালোচনা: যখন কেউ অন্যায়, অপরাধ বা ভুল কাজ করে, তখন ন্যায় ও সমাজের কল্যাণের জন্য তার কৃত্যের সমালোচনা করা হয়। এ ধরনের সমালোচনাকে নৈতিক সমালোচনা বা ন্যায়সঙ্গত সমালোচনা বলা হয়। এর উদ্দেশ্য ব্যক্তিকে অপমান করা নয়, বরং তার সংশোধন এবং সামাজিক ন্যায় প্রতিষ্ঠা করা। ২. ঈর্ষাজনিত নিন্দা: মানুষ যখন ঈর্ষাবশত মিথ্যা বা অযথা অন্যের নিন্দা করে, তখন তাকে ...

মানুষ চেনার সহজ উপায়।

Image
  ☯ মানুষ চেনার সহজ উপায়। यथा हि सुवर्णं घर्षच्छेददाहताडनैः परीक्ष्यते । तथा नरः क्लेशकाले स्वगुणैः परीक्ष्यते॥ বাংলা অর্থ: সোনাকে যেমন ঘষা, কাটা, উত্তপ্ত করা ও প্রহার করে পরীক্ষা করা হয়, তেমনি একজন মানুষকে তার ত্যাগ, শিষ্টাচার, গুণ ও কর্ম দ্বারা চেনা যায়। মানুষ চেনার সহজ উপায় সম্পর্কে আমাদের সমাজে বহুদিন ধরে প্রচলিত কিছু উপদেশ রয়েছে। ১. আইডিয়াল মানুষ: যারা ভালো চিন্তাভাবনা ও আইডিয়া নিয়ে কথা বলতে পছন্দ করেন। ২. ভালো মানুষ: যারা উপকারী বিষয় নিয়ে কথা বলেন। ৩. খারাপ মানুষ: যারা প্রায়শই অন্যের নিন্দা ও সমালোচনায় লিপ্ত থাকেন। মানুষের আচরণ ও ব্যবহার থেকে চেনা: মানুষের নিচে কাজ করা ব্যক্তিদের সঙ্গে তার ব্যবহার দেখে বোঝা যায় সে কেমন। পশু-পাখি, দরিদ্র, দুস্থ ও বিপদগ্রস্ত ব্যক্তিদের প্রতি আচরণ থেকেও চরিত্র বোঝা যায়। কারো বন্ধুবান্ধব ও সঙ্গীদের দেখে তার স্বভাব অনুমান করা যায়। মুখ দেখে মানুষ চেনা: মুখ মনের দর্পণ। মুখের অভিব্যক্তি ও হাবভাব দেখে বোঝা যায় মানুষের মনের অবস্থা। আবেগ ও অভিব্যক্তি দেখে মানুষ চেনার উপায়: ঈর্ষা: মুখ ভারী করে রাখে, অন্যের খুশিতে মৌন থাকে। হিংসা: চোখ বড় বড় করে তাকায়, আ...